নির্মাণ খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ‘ম্যাসনরি লেভেল-৩’ কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের গুরুত্ব
কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী লেভেল-৩ শেষ করা একজন রাজমিস্ত্রি নকশা পাঠ, মিশ্রণ অনুপাত ও মান নিয়ন্ত্রণে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন।
বাংলাদেশের নির্মাণ খাত গত এক দশকে যে গতিতে বেড়েছে, দক্ষ কর্মীর জোগান সেই গতিতে বাড়েনি। ফলে বড় প্রকল্পগুলোতে মাঝারি ও উচ্চ দক্ষতার রাজমিস্ত্রির ঘাটতি এখন স্পষ্ট। এই ঘাটতি পূরণে কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) অনুযায়ী ম্যাসনরি অকুপেশনের লেভেল-৩ প্রশিক্ষণকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লেভেল-৩ আসলে কী শেখায়
লেভেল-১ ও ২-তে একজন প্রশিক্ষণার্থী মূলত নির্দেশনা অনুসরণ করে কাজ করেন। লেভেল-৩-এ এসে তাঁকে কাজের পরিকল্পনা, উপকরণের হিসাব এবং মান যাচাইয়ের দায়িত্ব নিতে হয়। অর্থাৎ এখান থেকেই একজন কর্মী “শ্রমিক” থেকে “কারিগর” হয়ে ওঠেন।
- কাঠামোগত নকশা ও লেআউট পড়া এবং মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ
- মর্টার ও কংক্রিটের মিশ্রণ অনুপাত নির্ধারণ
- লোডবেয়ারিং ও নন-লোডবেয়ারিং দেয়ালের পার্থক্য বুঝে কাজ
- কিউরিং, ওয়াটার প্রুফিং ও ফিনিশিংয়ের মান নিয়ন্ত্রণ
- কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা (OSH) ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা
প্রশিক্ষণের কাঠামো ও সময়
সাধারণত ৩৬০ ঘণ্টার এই কোর্সে তাত্ত্বিক ক্লাসের চেয়ে হাতে-কলমে কাজের সময় বেশি রাখা হয়। প্রতিটি মডিউল শেষে অ্যাসেসমেন্ট হয় এবং সব মডিউলে উত্তীর্ণ হলে জাতীয় সনদ পাওয়া যায়। যাঁরা ইতিমধ্যে কাজ করছেন, তাঁরা আরপিএল (রিকগনিশন অব প্রায়র লার্নিং) পদ্ধতিতে সরাসরি অ্যাসেসমেন্টে অংশ নিয়ে সনদ নিতে পারেন।
সনদ থাকলে দেশের ভেতরে মজুরি বাড়ে, আর বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে বেতন কাঠামো পুরোপুরি বদলে যায়।
কর্মসংস্থানের সুযোগ
লেভেল-৩ সনদধারীরা রিয়েল এস্টেট কোম্পানি, অবকাঠামো প্রকল্প এবং বিদেশে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নির্মাণ খাতে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর তথ্য বলছে, কোর্স শেষ করার ছয় মাসের মধ্যে গড়ে ৭০ শতাংশের বেশি প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থান হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রশিক্ষণ বাড়ালেই হবে না—শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যোগাযোগ আরও নিবিড় করতে হবে, যাতে পাঠ্যক্রম বাস্তব কাজের চাহিদার সঙ্গে মিলে যায়।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।